ডিজিটাল ইউয়ানের নীরব উত্থান ও মার্কিন ডলারের আধিপত্যের অবসান
লেখক: মোহাম্মদ বুরহানউদ্দীন কাসমি
সম্পাদক: ইস্টার্ন ক্রিসেন্ট, মুম্বাই
বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতি নীরবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে একটি গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। হংকং ও দুবাইয়ের মধ্যে সম্প্রতি একটি ক্রস-বর্ডার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে চায়নার ডিজিটাল ইউয়ানের দিয়ে, পিপলস ব্যাংক অফ চায়নার মাধ্যমে, যা মাত্র সাত সেকেন্ডে সম্পন্ন হয়েছে এবং ঐতিহ্যবাহী সুইফট সিস্টেমের তুলনায় সার্ভিস চার্জ ৯৫% কমে সম্পন্ন হয়েছে। এটি শুধু একটি সাধারণ ফিনটেক মাইলফলক নয়, বরং ভবিষ্যতের একটি ইঙ্গিত। এটি একটি দ্রুত আসন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয় যেখানে মার্কিন ডলার আর বিশ্বের ডিফল্ট মুদ্রা হিসেবে রাজত্ব করবে না।
প্রায় এক শতাব্দী ধরে, মার্কিন ডলার বিশ্বব্যাপী অপ্রতিদ্বন্দ্বী আস্থা উপভোগ করেছে, যা আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তি এবং বিকল্পের অভাবের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। কিন্তু এখন এই দুটি স্তম্ভই ভেঙে পড়ছে। গত দশকে, ডলারকে একতরফা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা এমনকি ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরও ওয়াশিংটনের খামখেয়ালি থেকে বাঁচার জন্য বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, যারা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত অংশীদার, এখন প্রকাশ্যে ডিজিটাল ইউয়ান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। ইরান, যারা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম দ্বারা বিচ্ছিন্ন, তাদেরকে চীন থেকে কোনো দ্বিতীয় আমন্ত্রণের প্রয়োজন নেই। সৌদি আরব, যারা একসময় পেট্রোডলার সিস্টেমের মেরুদণ্ড ছিল, তারা চুপিসারে তাদের আর্থিক জোটগুলিকে বৈচিত্র্যময় করছে। এই পরিবর্তনগুলো এলোমেলো নয়—এগুলো আমেরিকান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অবিশ্বস্ততার প্রতি একটি সমন্বিত, যুক্তিসঙ্গত প্রতিক্রিয়া।
এটাকে শুধু বাইরের প্রতিযোগিতা বা চীনের উত্থানের উপর দোষারোপ করা ভুল হবে। বেশিরভাগ ক্ষতি স্ব-প্রণোদিত, এবং আমেরিকান বিশ্বাসযোগ্যতার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর অনিয়মিত শাসনশৈলী, অপ্রত্যাশিত বাণিজ্য যুদ্ধ, বহুপাক্ষিক চুক্তি থেকে হঠাৎ সরে আসা এবং কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি প্রায় সম্পূর্ণ অবহেলা সেই ভবিষ্যদ্বাণীর ভিত্তিকে ধ্বংস করেছে যার উপর আমেরিকান আর্থিক সাম্রাজ্য দাঁড়িয়ে ছিল। কূটনীতিকে রিয়েল এস্টেট ডিল এবং বৈদেশিক সম্পর্ককে ব্যক্তিগত বিবাদের মতো আচরণ করে, ট্রাম্প সেই বিশ্বব্যাপী আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন যা গড়ে তুলতে আমেরিকার দশক লেগেছে। ইউরোপ এবং কানাডার মতো মিত্রদের বিরুদ্ধে তাঁর অদূরদর্শী শুল্ক, ডব্লিউটিওর মতো প্রতিষ্ঠানের উপর জোরজবরদস্তি, এবং চীন-মার্কিন সম্পর্কের অবহেলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনা—এই সবই বিকল্প ব্যবস্থার উত্থানে ব্যাপক অবদান রেখেছে, যার মধ্যে চীনের ডিজিটাল ইউয়ানের প্রচেষ্টাও রয়েছে। আজ আমরা যে অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখছি তা শুধু একটি বৈশ্বিক প্রবণতা নয়—এটি একজন ব্যক্তির অপেশাদার অর্থনৈতিক দুঃসাহসিকতার প্রত্যক্ষ ফলাফল।

এর আগে ট্রাম্পের উত্তরসূরি শুধু ভাঙা জোটই পায়নি, বরং এমন একটি বিশ্ব পেয়েছিল যা তখন বিকল্পের জন্য বেশি উন্মুক্ত ছিল। আর সেই সময়, চীন ধৈর্য ও সূক্ষ্মতার সাথে তার কার্ড খেলেছে। ডিজিটাল ইউয়ান শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়—এটি একটি কৌশলগত হাতিয়ার, যা গ্লোবাল সাউথকে দ্রুত, সস্তা এবং নিষেধাজ্ঞা-মুক্ত লেনদেনের সুযোগ দিচ্ছে, আর পুরো বিশ্ব এটি লক্ষ্য করছে।
ভারত এই পরিবর্তনশীল স্রোত থেকে মুক্ত নয়। ভারতীয় শেয়ার বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতা শুধু দেশীয় অনিশ্চয়তার লক্ষণ নয়, বরং এই বৃহত্তর বৈশ্বিক পুনর্গঠনের প্রতিফলন। বৈশ্বিক বাণিজ্য যেহেতু ধীরে ধীরে ডলারের আধিপত্য থেকে সরে যাচ্ছে, ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শিগগিরই নিতে হবে। আমাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করতে পারে আমরা কতটা দক্ষতার সাথে ব্রিক্স অংশীদারিত্ব, রুপি-ভিত্তিক বাণিজ্য এবং আমাদের ভূ-রাজনৈতিক প্রতিবেশীদের ডিজিটাল মুদ্রার ক্রমবর্ধমান প্রাসঙ্গিকতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারি, তার উপর।
ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা যারা উদ্বেগের সাথে বাজার দেখছেন, তাদের আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে দূরে থাকা উচিত। এটি কৌশলগত চিন্তার সময়, আতঙ্কের নয়। বৈচিত্র্য এখনও মূল চাবিকাঠি—আপনার বিনিয়োগকে একাধিক সম্পদ শ্রেণীতে ছড়িয়ে দিন যাতে ঝুঁকি ভারসাম্যপূর্ণ হয়। বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতন থাকুন, বিশেষ করে ডিজিটাল মুদ্রার গতিপথ এবং তাদের প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করার সম্ভাবনা সম্পর্কে জেনে রাখুন। দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি রাখুন, কারণ বাজার অস্থিরতা প্রায়ই কাঠামোগত পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেয়। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কোনো বড় পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আর্থিক উপদেষ্টাদের সাথে পরামর্শ করুন যারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গতিশীলতা উভয়ই বোঝেন।
এদিকে, আফগানিস্তান, যা পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থা থেকে আমেরিকার কারণেই বিচ্ছিন্ন, এই অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে আরেকটি অপ্রত্যাশিত ফ্যাক্টর। তালিবান সরকারের ডিজিটাল ইউয়ান গ্রহণের সব ধরনের প্রণোদনা রয়েছে, বিশেষ করে চীনের আফগান খনিজ ও ভূশক্তিতে আগ্রহের কারণে। যদি কাবুল ইউয়ান-ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের ক্রমবর্ধমান তালিকায় যোগ দেয়, তাহলে ইউরেশিয়ায় চীনের প্রভাব গভীরতর হবে, এবং ডলার থেকে দূরে সরে যাওয়ার গতি আরো ত্বরান্বিত হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখনও অদ্বিতীয় অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি রয়েছে, কিন্তু এর আধিপত্য আর আগের মতো নিশ্চিত নয়। এর পতন হয়তো যুদ্ধ বা বিপ্লবের মাধ্যমে আসবে না, বরং আসবে অস্থিরতায় ক্লান্ত এবং বিকল্পের সন্ধানে থাকা দেশগুলোর হাজারো সূক্ষ্ম সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। ডিজিটাল ইউয়ানের উত্থান কোনো দুর্ঘটনা নয়; এটি একটি সুচিন্তিত কৌশল যা পুরানো ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
পোস্ট-ডলার বিশ্ব এখনো আসেনি, কিন্তু এর রূপরেখা দৃশ্যমান হচ্ছে। এর পরে হয়তো কোনো এককেন্দ্রিক প্রতিস্থাপন হবে না, বরং একটি বহুমুখী মুদ্রাবিশ্ব হবে—যা একটি জাতির মেজাজের ওঠানামার প্রতি কম সংবেদনশীল এবং বৈশ্বিক বাস্তবতার বেশি প্রতিফলন করবে। আমেরিকান আর্থিক আধিপত্যের যুগ হয়তো যুদ্ধের সাথে নয়, বরং নীরব, দ্রুত লেনদেনের একটি ধারাবাহিকতার সাথে শেষ হবে—যেখানে শক্তি শালি সাম্রাজ্যকে একটু একটু করে অপ্রাসঙ্গিক করে শেষ করে দেবে।
I appreciate, cause I found exactly what I was looking for. You have ended my four day long hunt! God Bless you man. Have a nice day. Bye
Hello, I think your site might be having browser compatibility issues. When I look at your website in Opera, it looks fine but when opening in Internet Explorer, it has some overlapping. I just wanted to give you a quick heads up! Other then that, fantastic blog!
What¦s Happening i am new to this, I stumbled upon this I’ve discovered It positively helpful and it has aided me out loads. I’m hoping to give a contribution & assist different users like its aided me. Good job.