হাইস্কুল সমাপনী পরীক্ষায় ৯৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ডিব্রুগরের সুনাম বৃদ্ধি করেছে জিয়া ফারাহ ইসলাম
এম হাশিম আলি, ডিব্রুগর, ১০ এপ্রিল
অসম রাজ্য শিক্ষা পরিষদ আজ ঘোষিত হাইস্কুল সমাপনী পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে রাজ্যের মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করে ডিব্রুগরকে গর্বিত করেছে জিয়া ফারাহ ইসলাম। তিনি মোট ৬০০ নম্বরের মধ্যে ৫৮৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। জিয়া ফারাহ ইসলাম অসমিয়ায়- ৯৬, ইংরেজিতে- ৯৮, গণিতে-১০০, সাধারণ বিজ্ঞানে – ৯৯, সমাজ বিজ্ঞানে- ৯৫ এবং উচ্চ গণিতে ১০০ নম্বর পেয়ে মোট ৯৮ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছে।
ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ মেধার পরিচয় দেওয়া জিয়ার জন্ম ডিব্রুগড়ের মিলন নগরের রতনপুর রোডে। পিতা সাদেকুল ইসলাম এবং মাতা জেসমিন বেগম (উভয়েই শিক্ষক)-এর একমাত্র কন্যা জিয়া ইসলাম ডিব্রুগরের লিট’ল ফ্লাওয়ার স্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়ে এই সাফল্য অর্জন করেছে।
স্কুলটি থেকে এ বছর মোট ১৮২ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ১৬৮ জন প্রথম বিভাগে এবং ১৪ জন দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়—অর্থাৎ হান্ড্রেড পারসেন্ট ভাগ ছাত্রী সফলতা অর্জন করে। ফুলের বাগান করা এবং রান্না করতে ভালোবাসা জিয়া ইসলাম ছোটবেলা থেকেই ভবিষ্যতে একজন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে আসছে।

ডিব্রুগরের সুনাম বৃদ্ধি করা জিয়ার বাড়িতে আজ অনেক আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব এসে শুভেচ্ছা জানায়। উল্লেখযোগ্য যে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হাইস্কুল সমাপনী পরীক্ষায় ৪.৩৮ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে উত্তীর্ণের হার ৬৫.৬২%। লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলে ছেলেদের উত্তীর্ণের হার ৬৭.৭৮% এবং মেয়েদের ৬৩.৯৬%। মোট ২,৮১,৭০১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে ৮৫,১৮৯ জন প্রথম বিভাগ লাভ করেছে।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে ডিমা হাসাও জেলা ৮৮.২৩% উত্তীর্ণের হার নিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে। এরপর শিবসাগর ও ডিব্রুগর জেলা স্থান অধিকার করেছে, অন্যদিকে কাছাড় জেলা ৪৯.১৩% উত্তীর্ণের হার নিয়ে সর্বনিম্ন স্থানে রয়েছে। পরিষদ ঘোষণা করেছে যে, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়া ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। অন্যদিকে, যোগ্য প্রার্থীদের জন্য সম্পূরক পরীক্ষা মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর ৪.৩৮ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করায় হাইস্কুল সমাপনী পরীক্ষার শিক্ষার ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহত্তম অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।