ডিব্রুগড়ে মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক: জনজাতীয় পরিবারগুলির ভূমির অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৈঠক — নিষ্পত্তি না হওয়া মামলাগুলি পুনর্বিবেচনা নিয়ে আলোচনা
এম. হাশিম আলি
ডিব্রুগড়, ২৮ অক্টোবর:
জনজাতীয় পরিবারগুলির দীর্ঘদিনের ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং ভূমির অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ ডিব্রুগড়ে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দু’দিনের সফরসূচি নিয়ে ডিব্রুগড় ও তিনসুকিয়ায় আসা মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা লখিমপুর, ধেমাজি ও মাজুলির জেলাশাসকদের পাশাপাশি বন বিভাগের আধিকারিক এবং বিভিন্ন জনজাতীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে জনজাতীয় জনগোষ্ঠীর ভূমি বন্দোবস্ত-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে বিশেষভাবে মিশন বসুন্ধরার বাস্তবায়ন, জনজাতি-অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ভূমি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন সমস্যা, জনজাতীয় পরিবারগুলিকে সর্বোচ্চ ৫০ বিঘা পর্যন্ত জমি বরাদ্দের বিষয় এবং মিশন বসুন্ধরা ২.০ ও ৩.০-এর অধীনে নিষ্পত্তি না হওয়া মামলাগুলি মিশন বসুন্ধরা ৪.০-এর অধীনে পুনর্বিবেচনা করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

জনজাতীয় পরিবারগুলি যাতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা জমির আইনি অধিকার লাভ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে সরকারের ভূমিনীতি ও ভূমি বন্দোবস্তের প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। উল্লেখ্য, অসমের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু জনজাতীয় পরিবার যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে। নিজেদের দখলে থাকা জমিতে তারা চাষাবাদ করার পাশাপাশি ঘরবাড়ি নির্মাণ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এখনও বহু পরিবার জমির স্থায়ী পাট্টা বা আইনি মালিকানার অধিকার লাভ করতে পারেনি। এর ফলে জমির মালিকানা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা পরিবার গুলির বর্তমান জীবনযাত্রার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও প্রভাবিত করছে।
অন্যদিকে, জনজাতীয় জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অখিল অসম সোণোৱাল কছাৰী ছাত্র সংস্থার সভাপতি দেবানন্দ চলেং। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর দেবানন্দ চলেং বলেন, জনজাতীয় জনগোষ্ঠীর ভূমি-সমস্যার সমাধান একটি দীর্ঘদিনের দাবি। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা আদিবাসী ও ভূমিপুত্র জনজাতীয় জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

দেবানন্দ চলেং আরও বলেন, অসমের জনজাতীয় জনগোষ্ঠীর মানুষ যুগ যুগ ধরে নিজেদের জমিতে বসবাস করে আসার পাশাপাশি কৃষিকাজ ও অন্যান্য জীবিকার মাধ্যমে পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ করে আসছেন। তা সত্ত্বেও জমির আইনি অধিকার লাভের ক্ষেত্রে তাঁদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্থায়ী পাট্টা না থাকার কারণে বহু পরিবার নিজেদের দখলে থাকা জমির ওপর পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। তাই জনজাতীয় জনগোষ্ঠীর ভূমি-সমস্যার সমাধান এবং তাঁদের অধিকার সুরক্ষিত করা বর্তমান সময়ের দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি ও বেসরকারি জমির পাশাপাশি ভিলেজ গ্রেজিং রিজার্ভ এবং প্রফেশনাল গ্রেজিং রিজার্ভ জমিতে বসবাসকারী জনজাতীয় পরিবারগুলির সমস্যাগুলিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। বনাধিকার আইনের অধীনে প্রাপ্য অধিকার প্রদান এবং ভূমি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতাগুলি দূর করার জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। চলেং আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়িত হলে জনজাতীয় পরিবারগুলির দীর্ঘদিনের ভূমি-সমস্যা সমাধানের পথ প্রশস্ত হবে। এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজেদের জমির অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হবে না এবং ভূমিপুত্র জনজাতীয় জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।

আজকের বৈঠকে সমতল জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রী ডা. রণোজ পেগু, জলসম্পদ মন্ত্রী সুশান্ত বরগোহাঁই, শ্রমমন্ত্রী রামেশ্বর তেলি-সহ স্বায়ত্তশাসিত পরিষদগুলির মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বিভিন্ন জনজাতীয় সংগঠনের পদাধিকারীরা উপস্থিত ছিলেন।