ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতীয় মূল্যবোধের ওপর কলঙ্ক: মাওলানা সৈয়দ মাহমুদ আসাদ মাদানী।
নয়াদিল্লি, ২ আগস্ট: ২০২৬ ভারত থেকে ইসরায়েলকে কথিত অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা সৈয়দ মাহমুদ আসাদ মাদানী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক ওই রিপোর্টে গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি এটিকে ‘মানবতা ও ভারতীয়তার আঁচলে দাগ’ বলে অভিহিত করেছেন। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে লাখ লাখ সামরিক অস্ত্র ও কামানের গোলা ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে।
এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিক্রিয়াকে অস্পষ্ট আখ্যা দিয়ে মাওলানা মাদানী বলেন, সরকারের এই এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাব দেশের নৈতিক ভিত্তি ও বিশ্বব্যাপী সুনামের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
গণমাধ্যমে দেওয়া তার সরকারি বিবৃতিতে জমিয়ত প্রধান আন্তর্জাতিক আদালতের (ICJ) ২০২৪ সালের ওই নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্ব ও গণহত্যার প্রেক্ষিতে সব দেশকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট করেন, ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং ১৯৪৮ সালের গণহত্যা প্রতিরোধ চুক্তির অধীনেও যুদ্ধাপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মাওলানা মাদানী কঠোর ভাষায় বলেন, “এটা জেনেও যে এই অস্ত্রগুলো নিষ্পাপ শিশু, নারী ও সাধারণ নাগরিকদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে, অস্ত্র সরবরাহ করা একটি ফৌজদারি অপরাধ যা গণহত্যায় অংশীদারিত্বের সমান। এটি শুধু আন্তর্জাতিক আইনের খোলাখুলি লঙ্ঘনই নয়, বরং মানবতা ও ভারতীয় মূল্যবোধের সঙ্গেও বিরাট প্রতারণা।”
ভারতের ঐতিহাসিক পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করে তিনি মনে করিয়ে দেন, মহাত্মা গান্ধীর সময় থেকেই ভারতের সোনালি ইতিহাস সবসময় নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে থাকার। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ‘নিরপেক্ষতা’র অজুহাত দেখিয়ে এই নীতি বদলে দিয়েছে। তিনি বলেন, “যদি এই নিরপেক্ষতাকে মানিও, তবে একদিকে জোটনিরপেক্ষতার দাবি করা আর অন্যদিকে আক্রমণকারীকে অস্ত্র দেওয়া আমাদের জাতীয় নীতি ও ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বিরাট বিশ্বাসঘাতকতা। দেশের কোনো বিবেকবান নাগরিকই এটি মেনে নিতে পারে না।”

জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ ভারত সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিরক্ষা কোম্পানির মাধ্যমে ইসরায়েলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। সংগঠনটি আরও দাবি জানায়, সরকার স্বচ্ছভাবে সত্য সামনে আনুক এবং মানবতার খাতিরে ইসরায়েলের সঙ্গে সব সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করুক।
বিবৃতির শেষে বলা হয়, “ভারতের বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠা তার নৈতিক শক্তি ও সত্যের পাশে দাঁড়ানোর সাহসের ওপর নির্ভরশীল। দেশের নৈতিক সুনাম রক্ষার জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করা একান্ত আবশ্যক।”
মোহাম্মদ আজিমুল্লাহ সিদ্দিকী
সচিব,জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ