মুফতি আনওয়ার হোসাইন ক্বাছিমী
আল-জামিয়াতুত তাহিরীয়া মাদ্রাসা, আছিমগঞ্জ, করিমগঞ্জ।
ইতিহাস (তারিখ) হলো একটি জাতির ঘটনাবলির ধারক ও বাহক। এটি যুগের পর যুগ মানুষকে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে, অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং জাতির ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে। কোনো জাতির জন্যই ইতিহাস ছাড়া চলা সম্ভব নয়। অনেক সময় ইতিহাসকে “ক্যালেন্ডার” বা “পঞ্জিকা” বলেও প্রকাশ করা হয়। তাই “হিজরি ক্যালেন্ডার” বলতে মূলত “হিজরি সন” বা “হিজরি ইতিহাস” বোঝানো হয়।
ইসলাম-পূর্ব যুগে আরববাসীরা চান্দ্র মাস ব্যবহার করলেও তাদের নিজস্ব কোনো নির্দিষ্ট সাল বা বর্ষপঞ্জি ছিল না। তারা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সময় নির্ধারণ করত। যেমন— “আমুল ফীল” (হাতির বছর), যে বছরে রাসূলুল্লাহ সাঃ জন্মগ্রহণ করেন; “হারবুল ফিজার” (ফিজার যুদ্ধ); কাবা শরীফ পুনর্নির্মাণের ঘটনা ইত্যাদি।
আল্লাহ তাআলার অশেষ কৃপায় মহান হিজরতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা ঘটে। মক্কা থেকে মদিনায় এই হিজরত ছিল ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব সূচনা, যা পরবর্তীকালে ইসলামের বিকাশ, প্রসার এবং মুসলিম সমাজের সুদৃঢ় ভিত্তি রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর ফারুক (রাঃ) এর খেলাফতকালে একবার হযরত আবু মূসা আশআরী রাঃ তাঁকে একটি চিঠি লিখে জানান যে, খলীফার পক্ষ থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি চিঠিপত্র পাঠানো হয়, কিন্তু সেগুলোতে কোনো তারিখ উল্লেখ থাকে না। অথচ তারিখ লেখার অনেক উপকারিতা রয়েছে। এর মাধ্যমে জানা যায় যে চিঠি কবে লেখা হয়েছে, কবে পাঠানো হয়েছে, কখন পৌঁছেছে, কখন নির্দেশ জারি হয়েছে এবং কখন থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এসব বিষয় সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও বোঝার জন্য তারিখ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হযরত উমর রাঃ এই যুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিশিষ্ট সাহাবীদের নিয়ে একটি শূরা (পরামর্শ সভা) আহ্বান করলেন। সেখানে হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ) এর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে সকল সাহাবায়ে কিরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম এ প্রস্তাবকে সমর্থন করেন

ইসলামী সনের সূচনা
ইসলামী সনের সূচনা কোন ঘটনা থেকে করা হবে এ বিষয়ে সাহাবীদের মধ্যে চারটি মতামত সামনে আসে—
১. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জন্মবর্ষ থেকে ইসলামী সনের সূচনা করা হোক।
২. নবুয়ত লাভের বছর থেকে সূচনা করা হোক।
৩. হিজরতের বছর থেকে সূচনা করা হোক।
৪. রাসূলুল্লাহ সাঃ-এর ইন্তিকালের বছর থেকে সূচনা করা হোক।
এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর হযরত উমর (রাঃ) মত প্রকাশ করেন যে, জন্ম ও নবুয়তের তারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে, ফলে সেখান থেকে সন গণনা শুরু করলে বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। আর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ইন্তেকালের বছর ছিল মুসলমানদের জন্য গভীর শোকের বছর; তাই সেটিকে সূচনাবর্ষ করা সমীচীন নয়।
অবশেষে হযরত উমর রা. হিজরতের বছরকে ইসলামী সনের সূচনাবর্ষ হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব দেন। কারণ, হিজরতই সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য সৃষ্টি করেছিল। এর মাধ্যমেই মুসলমানরা নিরাপদ পরিবেশে আল্লাহর ইবাদত করার সুযোগ পেয়েছিল এবং মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র ও মসজিদে নববীর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। যা পরবর্তীকালে ইসলামের প্রচার ও প্রসারের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
হযরত উমর (রা.) এর এই যুক্তিগুলো সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম সানন্দে গ্রহণ করেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, ইসলামী সনের সূচনা হবে হিজরতের বছর থেকে।
যদিও ইসলামের ইতিহাসে বদরের যুদ্ধ, মক্কা বিজয়, হাজ্জাতুল বিদা প্রভৃতি বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, তবুও সেগুলোর কোনোটিকে সনের সূচনা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি। কারণ, সাহাবায়ে কিরাম রাঃ বাহ্যিক জাঁকজমকের পরিবর্তে সেই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন, যা ইসলামের প্রকৃত উত্থানের সূচনা করেছিল।
বাহ্যিকভাবে হিজরতকে দুর্বলতা, নিপীড়ন, অসহায়ত্ব ও দেশত্যাগের ঘটনা মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটিই ছিল ইসলামের বিজয়যাত্রার সূচনা। হিজরতের মধ্যেই ভবিষ্যতের সকল সাফল্য ও অগ্রগতির বীজ নিহিত ছিল। পরবর্তীকালে ইসলামের বিস্তার, মুসলমানদের শক্তি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং বিজয়ের যে ইতিহাস রচিত হয়েছে, তার মূল ভিত্তি ছিল এই হিজরত।
হিজরি সনের সূচনা মুসলমানদেরকে সেই ঐতিহাসিক যুগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন তারা মক্কার কঠিন নির্যাতন ও পরীক্ষার জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে মদীনায় একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী কেন্দ্র লাভ করেছিল। এখান থেকেই ইসলাম শক্তি অর্জন করে, বাতিল শক্তি দুর্বল হতে শুরু করে এবং তাওহীদের বার্তা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ে।
বছরের প্রথম মাস কোনটি হবে?
এ বিষয়েও সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত ছিল—
কেউ বলেন, রজব মাস থেকে বছর শুরু করা হোক।
কেউ বলেন, রমযান মাস থেকে শুরু করা হোক; কারণ এ মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে।
কেউ বলেন, মুহাররম মাস থেকে শুরু করা হোক।
আবার কেউ বলেন, রবিউল আউয়াল মাস থেকে শুরু করা হোক; কারণ এ মাসেই রাসূলুল্লাহ সাঃ হিজরত করেছিলেন।
সকল মতামত বিবেচনার পর হযরত উমর (রাঃ) ও সাহাবায়ে কেরাম মুহাররম মাসকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে নির্বাচন করেন। কারণ, জাহেলিয়াতের যুগেও আরবদের মধ্যে মুহাররমই বছরের প্রথম মাস হিসেবে স্বীকৃত ছিল।
সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমতে মুহাররম মাসকে বছরের প্রথম মাস নির্ধারণ করা হলো।
মুহাররম মাসকে বছরের প্রথম মাস নির্ধারণের কারণ
হিজরত যদিও রবিউল আউয়াল মাসে সংঘটিত হয়েছিল, তবুও মুহাররমকে বছরের প্রথম মাস নির্ধারণ করা হয়। কারণ:
১. আরবদের মধ্যে মুহাররমই বছরের প্রথম মাস হিসেবে পরিচিত ছিল।
২. যিলহজ মাসে আকাবার বাইআত সংঘটিত হয়েছিল, যা হিজরতের ভূমিকা তৈরি করে। তার পরবর্তী প্রথম মাস ছিল মুহাররম।
৩. হজ শেষে মানুষ নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যেত, তাই নতুন বছরের সূচনার জন্য মুহাররম ছিল উপযুক্ত সময়।
এভাবেই হিজরি সনের সূচনা হয়, যা আজ পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে।
হিজরি মাসসমূহ ও তাদের নামকরণের কারণ
হিজরি বর্ষপঞ্জির মাসগুলোর বর্তমান নামগুলোর পেছনে কিছু কারণ ও অর্থ রয়েছে। আলেমগণ, যেমন ইমাম সাখাভী (রহঃ) প্রমুখ, এসব কারণ উল্লেখ করেছেন। এগুলো নিশ্চিত শরয়ী বিধান নয়; বরং পরিচিতি ও বোঝার সুবিধার্থে বর্ণিত অর্থ। যেহেতু চান্দ্রমাসগুলো ঋতুর সঙ্গে স্থিরভাবে সম্পর্কিত নয় এবং বছরের বিভিন্ন ঋতুতে আবর্তিত হয়, তাই নামকরণের সময়কার অবস্থার ভিত্তিতেই এগুলোর নাম রাখা হয়েছিল।
হিজরি বছরের মাসসমূহ
১. মুহাররম (মুহাররমুল হারাম) — এটি হিজরি বছরের প্রথম মাস এবং সম্মানিত (হারাম) মাসগুলোর একটি। ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবরা এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ হারাম মনে করত, তাই এর নাম রাখা হয় “মুহাররম”।
২. সফর এ মাসে আরবরা যুদ্ধ ও সফরের জন্য ঘরবাড়ি খালি করে বেরিয়ে যেত। তাই “খালি হয়ে যাওয়া” অর্থ থেকে এর নাম রাখা হয়েছে সফর।
৩. রবিউল আউয়াল “রবী” অর্থ বসন্তকাল। নামকরণের সময় এ মাস বসন্ত ঋতুতে পড়েছিল বলে এর নাম রাখা হয় রবিউল আউয়াল।
৪. রবিউস সানী (রবিউল আখির) এটি রবিউল আউয়ালের পরবর্তী মাস হওয়ায় এর নাম রাখা হয়েছে রবিউস সানী বা রবিউল আখির।
৫. জুমাদাল উলা এটা এসেছে “জামাদ” (জমে যাওয়া) থেকে । নামকরণের সময় এ মাস শীতকালে পড়ত এবং পানির উপর বরফ বা জমাট অবস্থা দেখা দিত। তাই এর নাম রাখা হয় “জুমাদাল উলা”।
৬. “জুমাদাস সানিয়া” (জুমাদাল আখিরাহ) এটি জুমাদাল উলার পরবর্তী মাস হওয়ায় এ নামকরণ করা হয়েছে।
৭. রজব “তারজীব” অর্থ সম্মান ও মর্যাদা প্রদান। এটি চারটি হারাম (সম্মানিত) মাসের একটি, তাই এর নাম রজব।
৮. শাবান (ছড়িয়ে পড়া,বিভক্ত হওয়া) এ মাস রজব ও রমযানের মাঝখানে অবস্থিত। আবার বলা হয়, রজব মাসে যুদ্ধবিরতির পর বিভিন্ন গোত্র যুদ্ধ ও অভিযানের জন্য ছড়িয়ে পড়ত, তাই এর নাম শাবান।
৯. রমযান “রমদা” অর্থ প্রচণ্ড গরম বা তীব্র উত্তাপ। নামকরণের সময় এ মাস গ্রীষ্মকালে ছিল, তাই এর নাম রাখা হয় রমযান। এটি সিয়াম (রোযা)-এর মাস।
১০. শাওয়াল (কমে যাওয়া বা হ্রাস পাওয়া) এ মাসে ফল-ফসল শুকিয়ে যেত। আবার আরবরা বলত, উটনী গর্ভবতী হলে তার দুধ কমে যায়; সেই অর্থ থেকেও “শাওয়াল” নামের উৎপত্তি বলা হয়।
১১. যিলকদ এটি চারটি হারাম (মর্যাদা সম্পন্ন) মাসের একটি। এ মাসে আরবরা যুদ্ধ ও ভ্রমণ থেকে বিরত থাকত (বসে থাকত), তাই এর নাম “যিলকদ”।
১২. যিলহজ এটিও হারাম মাসের অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম-পূর্ব যুগ থেকেই আরবরা এ মাসে হজ পালন করত, তাই এর নাম রাখা হয় “যিলহজ”।
হারাম (সম্মানিত ও মর্যাদা সম্পন্ন) মাসসমূহ
ইসলামে চারটি মাসকে “আশহুরে হুরুম” বা সম্মানিত মাস বলা হয়েছে। এগুলো হলো: – যিলকদ – যিলহজ মুহাররম – রজব
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন: “বছর বারো মাসের। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত (হারাম): যিলকদ, যিলহজ, মুহাররম এবং রজব।”
হিজরি সনের গুরুত্ব
হিজরি সন মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসের জীবন্ত স্মারক। এটি মুসলমানদেরকে বদর, উহুদ, মক্কা বিজয় এবং ইসলামের অন্যান্য গৌরবময় ঘটনাবলির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
এছাড়া ইসলামের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিধান চান্দ্রমাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন:
• রোযা
• যাকাত
• হজ
• ইদ্দত
বিভিন্ন মান্নত ও নযর এসব ইবাদতের সময় নির্ধারণে হিজরি বর্ষপঞ্জিই মূল ভিত্তি।
প্রখ্যাত মুফাসসির ইমাম কুরতুবি (রহ) সূরা তাওবার আয়াত
﴿إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا﴾ “
এর ব্যাখ্যায় বলেন: নিশ্চয় আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি।” (সূরা আত-তাওবা: ৩৬)
তিনি বলেন: “এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ইবাদত ও অন্যান্য শরয়ী বিধানের সময় নির্ধারণ সেই মাস ও বছর অনুযায়ী হওয়া উচিত, যা আরবরা চিনত ও ব্যবহার করত। আজম (অনারব), রোমান বা কিবতিদের ব্যবহৃত মাস ও বছরের ভিত্তিতে নয়।”
এটিও সুপরিচিত যে, মুসলিম বিশ্বে ব্যাপকভাবে খ্রিস্টীয় (ইংরেজি) সনের ব্যবহার শুরু হয় উসমানীয় খেলাফতের পতনের (১৩৪২ হিজরি/১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ) পর। এর পর মুসলিম দেশগুলোতে পাশ্চাত্য প্রভাব ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিস্তার ঘটে ।
সুতরাং আমাদের জন্য করণীয় হলো আমাদের উজ্জ্বল ও গৌরবময় হিজরি সনকে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করা। কারণ, এটি আমাদের ইসলামী উম্মাহর স্বতন্ত্র পরিচয়, ঐতিহ্য ও সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হিজরি সনের প্রবর্তন ও প্রয়োগ প্রথম করেছিলেন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাঃ, যিনি খুলাফায়ে রাশেদীনের অন্যতম। সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম এ ব্যবস্থার উপর ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ—সালাফ ও খালাফ, আলেম ও মনীষীগণ—প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই সন ব্যবহার করে আসছেন।
“সর্বোপরি, এই সনের সূচনা জড়িত রয়েছে ইসলামের এক মহিমান্বিত ও বরকতময় ঘটনার সঙ্গে—রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পবিত্র হিজরতের সঙ্গে। তাই হিজরি সন শুধু একটি বর্ষপঞ্জি নয়; বরং এটি ইসলামী ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুসলিম জাতিসত্তার এক জীবন্ত স্মারক।