মুম্বাইয়ে এমএমইআরসি-র প্রথম ইংরেজি বক্তৃতা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
মাত্র দুই মাসের প্রশিক্ষণেই ইংরেজিতে অসাধারণ বক্তৃতা—মুগ্ধ অতিথি ও বিচারকমণ্ডলী
“মাত্র দুই মাসের প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের এমন মানের ইংরেজি বক্তৃতা সত্যিই বিস্ময়কর।”
— ইঞ্জিনিয়ার ওসামা গৌরি
“মাদরাসা থেকে ফারেগ হওয়ার পর এমএমইআরসি-এর মতো প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ভাষা শিক্ষার সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে আল্লাহর এক বড় নেয়ামত।”
— ড. মুহাম্মদ ঈসা নাদভী
ইসি নিউজ ডেস্ক
মুম্বাই | ২৮ জুন ২০২৬
ভারতের অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মারকাযুল মা’আরিফ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (এমএমইআরসি), মুম্বাই-এ ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ইংরেজি বক্তৃতা প্রতিযোগিতা (English Elocution Competition) অত্যন্ত উৎসাহ, উদ্দীপনা ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাদরাসা-স্নাতকদের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে দক্ষ করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এমএমইআরসি দীর্ঘদিন ধরে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২৭ জুন অনুষ্ঠিত বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ আটজন প্রতিযোগী সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে সাবলীল ইংরেজিতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। মাত্র দুই মাসের প্রশিক্ষণের মধ্যেই তাদের উচ্চারণ, ভাষার ওপর দখল, আত্মবিশ্বাস এবং উপস্থাপনার মান উপস্থিত অতিথি ও বিচারকমণ্ডলীকে গভীরভাবে মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় কারী মুহাম্মদ বাদশাহ-এর হৃদয়গ্রাহী কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর মাওলানা মাহমুদ এজাজ ইংরেজি অনুবাদ পেশ করেন এবং মাওলানা নসীবুল্লাহ খান রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শানে সুললিত কণ্ঠে নাত পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুফতি জাসিমুদ্দিন কাসমি। তিনি এমএমইআরসি-এর পরিচিতি তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মদ বদরুদ্দীন আজমল কাসমি-এর শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করেন এবং আগত অতিথিদের আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান।
বিচারকমণ্ডলীতে ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম জাভেদ কাসমি, এমএমইআরসি-এর সিনিয়র লেকচারার; ড. মুহাম্মদ ঈসা নাদভী, ভার্সোভার টিব্বিয়া কলেজের সাবেক অধ্যাপক; এবং ইঞ্জিনিয়ার ওসামা গৌরি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মুহাম্মদ আতীকুর রহমান কাসমি, এমএমইআরসি-এর ব্রাঞ্চ ইনচার্জ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ হানিফ শায়েখ, মহারাষ্ট্র কলেজের সাবেক অধ্যাপক এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন হাফিজ ইকবাল চুনাওয়ালা।
বক্তৃতা শেষে বিচারকমণ্ডলী প্রতিযোগীদের উদ্দেশ্যে মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করেন। ড. মুহাম্মদ ঈসা নাদভী বলেন, মাদরাসা থেকে ফারেগ হওয়ার পর এমএমইআরসি-এর মতো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে আধুনিক ভাষা শিক্ষার সুযোগ পাওয়া বর্তমান সময়ে এক বিরাট সৌভাগ্য।
প্রতিযোগীদের প্রশংসা করে ইঞ্জিনিয়ার ওসামা গৌরি বলেন, “মাত্র দুই মাসের প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীরা যে মানের ইংরেজি বক্তৃতা উপস্থাপন করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ এবং প্রশংসার দাবিদার।”
প্রধান অতিথি অধ্যাপক মুহাম্মদ হানিফ শায়েখ তাঁর বক্তব্যে বলেন, সফল বক্তা হওয়ার জন্য বিষয়বস্তুর পাশাপাশি শুদ্ধ উচ্চারণ, আত্মবিশ্বাস ও আকর্ষণীয় উপস্থাপনাশৈলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফলাফল ঘোষণা করেন বিচারক মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম জাভেদ কাসমি। প্রতিযোগিতায় মাওলভী মুহাম্মদ হামজা কাসমি প্রথম, মাওলভী ইউসুফ চৌধুরী কাসমি দ্বিতীয় এবং মাওলভী আবু সুফিয়ান কাসমি তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

বিশেষ অতিথি হাফিজ ইকবাল চুনাওয়ালা শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক ও সমাজসচেতন বিষয় নির্বাচন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের বিষয়ের মাধ্যমে সমাজের সামনে বাস্তবতা তুলে ধরা সম্ভব, যা এ প্রতিযোগিতার বক্তৃতাগুলোতে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ আতীকুর রহমান কাসমি উপস্থিত সকল অতিথির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে অধ্যবসায়, নিয়মিত অনুশীলন এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও সাফল্য অর্জনের আহ্বান জানান।
শেষে এমএমইআরসি মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহিদ কাসমি-এর পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে মাওলানা জামিল আহমদ কাসমি, মাওলানা মুহাম্মদ সালমান আলম কাসমি এবং এমএমইআরসি-এর সমগ্র শিক্ষক ও কর্মীবৃন্দের আন্তরিক সহযোগিতা ও নিরলস পরিশ্রম বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।