ডিব্রুগড়ে জেলা প্রশাসনের ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান: পল্টন বাজারে উদ্ধার ৯ বিঘা সরকারি জমি
এম. হাশিম আলি
ডিব্রুগড়, ১৬ জুন
ডিব্রুগড় শহরের বুকে সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসন একটি ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ডিব্রুগড়ের পল্টন বাজারে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের পেছনের এলাকায় এই বৃহৎ উচ্ছেদ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
এই অভিযানের মাধ্যমে প্রশাসন প্রায় ৯ বিঘা সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সক্ষম হয়। জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী এই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৬০টি পরিবার অবৈধভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিল। এর আগেও জেলা প্রশাসন ওই পরিবারগুলিকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে স্থান খালি করার জন্য নোটিশ প্রদান করেছিল। নোটিশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে জেসিবি এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতির সাহায্যে ওই অবৈধ নির্মাণগুলি ভেঙে ফেলে।

অভিযান সম্পর্কে এক সরকারি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এই পুরো বিষয়টি নিয়ে আমি এই মুহূর্তে বিশেষ কোনো মন্তব্য করতে পারব না। এটি আসাম মেডিকেল কলেজের সম্পত্তি এবং বহু মানুষ এখানে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছিলেন। সেই কারণেই সরকার গতকাল এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে বাধ্য হয়েছে। মহামান্য আদালতের নির্দেশ (এক্সিকিউশন কেস নং ১২/২০২২) অনুযায়ী সিভিল কোর্টের নাজিরের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর উক্ত জমি সরকারের দখলে আনা হবে এবং সরকার এর পূর্ণ দখল গ্রহণ করবে”।যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।

প্রশাসনের মতে, ব্রহ্মপুত্র ও মাইজান নদীর তীরবর্তী এই জমি সংরক্ষণ করা সরকারি নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই অভিযানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সচেতন মহল স্বাগত জানিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী দিনগুলোতেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।